1. syedmonir1985@gmail.com : DAINIKPOTRIKA :
  2. dainikpotrikainfo@gmail.com : Central Newsroom : Central Newsroom
  3. dainikpotrikabd@gmail.com : Central newsroom : Central newsroom
  4. dainikpotrikaads@gmail.com : News Room USA : News Room USA
বটগাছ-কড়ইগাছ - দৈনিক পত্রিকা
বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ০৮:৪০ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তিঃ
ছন্দের তালে নৃত্যে আনন্দে ভারত-বাংলাদেশের অংশগ্রহনে নৃত্য ছড়াওকবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগীতা-২০২১

বটগাছ-কড়ইগাছ

আশিক রাসেল
  • প্রকাশ কালঃ শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১
  • ৮৪ বার দেখা হয়েছে
এ অনেক ছোট্ট বেলার কথা। যখন জীবন ছিল স্বাধীন, আনন্দময় এবং ভালবাসায় ভরপুর।সেই দিন গুলির কথা আজও মনের মধ্যে দাগ কাটে।বেশ ভাল দিন কাটত।যেখানে -সেখানে ঘুরে বেড়াতাম।ওই জীবনটাই সোনালি ফ্রেমে গাঁথা ছিল। ক্রিকেট, ফুটবল খেলা গুলা তেমনটা বুঝতাম না তাই কোথায় পাখির বাসা আছে,কোথায় নানান জাতের পাখির ছানা আছে, কোথায় দাড়িয়াবান্ধা,কোথায় গোল্লাছুট, আবার কোথাও বউচি ইত্যাদি খেলা আছে সেখানে এলাকার ছেলে -মেয়ে মিলে মিশে খেলা ধুলা করতাম।ঠিক মত খাওয়া দাওয়া হত না। শরীরের প্রতি ছিল না কোন যত্ন। শুধু ছিল ছুটাছুটি, ঘুরাঘুরি।চোখে যা ভাল লাগত তাই করা।তবে খারাপ কিছু না। সবার সাথে মিলেমিশা চলাটাও এক প্রকার আনন্দ।সবাই ভাই বোনের মত ছিল।যেখানেই ছিল আম গাছ,জাম গাছ,বড়ই গাছ,জলপাই গাছ সেখানেই আড্ডা জমতো ছেলে -মেয়ের দল।যেন  মিলিটারি মিশন জয় করবে এই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা।ফল
পড়া সাথে সাথেই কাড়াকাড়ি  ফল নিয়ে।এই কাড়াকাড়িকে বাদ দিয়ে ভাগ করত দলের মধ্যে যে একটু বয়সে বড় সেই। সমাধান করে দিত ফল ভাগাভাগি। বেশ মজা করেই খাওয়া হত সেই ফল গুলি।এলাকার পাশে কোন বড় নদী নাই,আছে  অনেক দূর সেখানে যাওয়াটা হত না। বন্যায় যখন খোলা মাঠে পানি আসতো সেই পানি তো অনেক দিন থেকে যেত। আর পানি শুকাতে প্রায় মাস খানিক লেগে যেত।পানি প্রায় শেষ,  খোলা মাঠে অল্প অল্প পানি জমে থাকতো সেখানে ছোট ছোট মাছ পাওয়া যেত।যখন সবাই মিলে মাছ গুলি সংগ্রহ করতাম তখন তো অনেক মাছ হয়ে যেতো।দশে মিলে করলে সব সহজ।সাথে একটু আধটু মজাও পেতাম মাছ ধরার।মাছ তো পেয়েছি এখন কি করব, তখন তো সবারই একই কথা কি করবো,কি করবো এই মাছ গুলি দিয়ে।তখন কেউ কেউ বুদ্ধি দিত যে চল চড়ুইভাতি করি।চড়ুইভাতি করা সিদ্ধান্ত পাকাপুক্ত  হলে কারো বাড়ি থেকে লাকড়ি, কারো বাড়ি থাকে মশল্লা,তেল,উনুন এক কথায় খাবার তৈয়ারের জন্য সকল কিছু ভাগাভাগি করে এনে দিতাম।সবাই তো আর রান্নার কাজ করতাম না। যারা বয়সে বড় তারাই রান্না করতো।কিছু ছেলে মেয়েরা ছিল আমাদের বয়সে ছোট, তারা খোলগাড়ি খেলত,দৌড়াদৌড়ি করত,আবার কেউ খাবার না হতেই থালা নিয়ে হাজির হত।ওই মাছ গুলা আর আলু দিয়ে রান্না করা হত, কোন গাছ তলায়, ছায়াযুক্ত স্থানে।সাথে থাকতো আরো সাদা ভাত।সবাই মিলে খাওয়ার মজাই ছিল  আলাদা।কারো কারো পেটে অপূর্ণতা থেকে যেত, মনে মনে এই সান্ত্বনা পেত যে, সবাই মিলে খাইছি এটাতেই আমার পেট ভরে গেছে।ভুলে যেত ক্ষুদার কথা।যেন আনন্দ খেয়েই পেট পূর্ণ হয়ে গেছে।সকল কাজ কর্ম যখন শেষ দুপুর গড়িয়ে বিকেল, তখন সবাই মিলে গোসল করতাম রাস্তার ধারে।সেখানে  এক এক করে তিনটি পুকুর। সেখানে স্বচ্ছ পানির পুকুরে গোসল সারতাম।সেই পুকুর পাড়ে ছিল কড়ই গাছ,অপর পুকুর পাড়ে ছিল বটগাছ।বটগাছ-কড়ইগাছের ছিল অনেক মোটা ও বিশাল আকারের ছাতার মত ছড়িয়ে চিটিয়ে ছিল তার ডাল খানা।আর বট গাছের পাতা তো হাতির কানের মত।সেগুলো বাতাসের জন্য বেশ।আরো ছিল লম্বা লম্বা শিকড়। রাস্তা থেকে বেয়ে বেয়ে গেছে পুকুরের পানি অবধি।পুকুরের পানি সম্পূর্ণ ভরে থাকে না। এরি মাঝে ভেসে থাকে বটগাছের ঝুলন্ত শিকড়।মানুষ জন যখন কাজ কর্ম শেষ করে শরীরে মধ্যে অলসতা দেখা দিত তখনই বসে থাকত মাটির সাথে যুক্ত শিকড়ে।সৃষ্টিকর্তার সেই নির্মল বায়ু গায়ে লাগত।মন প্রাণ জুড়িয়ে যেত।মনে হত যদি কোন সুখহীন মানুষ এই শিকড়ে বসে প্রাকৃতিক বাতাস গায়ে লাগাত তার দুঃখ কমে কিছু হলেও সুখি মনে করত অল্প সময়ের জন্য হলেও।সেখানে সকাল কিংবা বিকাল হলেই জমতো নানান মানুষ, কেউ সুখের আশায়, কেউ বাতাসের আশায়,আবার কেউ গল্প গুজব করার জন্য। বসে থাকত আর গোসল করা দেখাত ছেলেদের।গাছ থেকে ছিল আরো ঝুলন্ত কিছু শাখা প্রশাখা সেই গুলা বেয়ে বেয়ে কিংবা ঝাঁপ দিতাম পুকুরে।অনেক মজা হত তখন।গাছের শিকড়ে বসে থাকা লোক জন বলত’ ওই লাফ দিস না ব্যথা পাবি কিন্তু’কে শুনত কার কথা সবাই তো আনন্দের মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছে।যেই পর্যন্ত চোখ লাল না হত সেই পর্যন্ত উঠতে পারতাম না পুকুর থেকে।সারা দিন এই সব কিত্তিকলাপ শেষে যখন বাড়িতে ফেরা হত তখন তো অনেক অনেক বকা খেতে হত।কিন্তু সেটাও যেন ছিল মজার।
কিন্তু এখন আফসোসের সহিত বলতে হচ্ছে কোথায় গেল ওই দিন গুলো আর কোথায় গেল বটগাছ -কড়ইগাছের সেই বসে থাকা দুখি মানুষকে কিঞ্চিৎ সুখ দেওয়া সেই শিকড়।আর নেই এই গুলা।বিলিন হয়ে নিচে পড়ে গেছে সব শিকড় সেই সাথে মাটি চাপা দেওয়া হইছে সুখ কেউ।যেমন ভাবে বিলিন হয়ে গেছিল ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান।এখন পুকুর গুলা মাটি দ্বারা পরিপূর্ণ করা হয়েছে। হয়েছে অনেক দোকানপাট।এখন চলে শুধু টিভি,আর টিভি, গান-বাজনা।আগের সুখ গুলা যে এখন দিতে পারে না গাছ গুলা।মানুষের সাথে সাথে সুখ যেন পেয়েছিল গাছ গুলা।বিছিয়ে দিয়ে ছিল তাদের ডাল-পালা যেন নির্মল বাতাস টুকু এই গাছ তলার মানুষ টুকু পায়। মানুষের সুখে যেন তাদের সুখ ছিল।থোকায় থোকায় পাতা ছিল ডালে ডালে।কিন্তু তাও পাওয়া যাই না এখন, মনে মনে ভাবি সুখ নেই যার তার আর নতুন পাতা কিসের। গাছ গুলা যেন মনে মনে ভাবে যেই ছায়া দিত দুখি মানুষ কে সুখি করার জন্য এখন এই ছায়া দেয় টিনের চালে,পাকা দেওয়ালে।আগের থেকেই অনেকটা বদলে গেছে গাছ দুটি।কেটে নেওয়া হয় গাছে ঝুলন্ত শিকড়,ডাল-পালা।সুখ নেই গাছের, সুখ নেই মানুষের।

গুরুত্বপূর্ণ সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ত্ব ২০১৯-২০২১
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardainikp1
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি । দৈনিক পত্রিকা কতৃপক্ষ
%d bloggers like this: